
কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের মামলায় সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মোসাম্মৎ ইসমত আরা এ আদেশ দেন। আদেশের পরপরই তাকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সুলতানা পারভীন আদালতে উপস্থিত হন। প্রথমে তিনি কাঠগড়ায় না উঠে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন, যা নিয়ে বাদীপক্ষ আপত্তি জানালে তাকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষে নেতৃত্ব দেন অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলামসহ একাধিক আইনজীবী। সাংবাদিক আরিফের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু ও জেলা বারের অন্যান্য সদস্যরা।
দুপুর পর্যন্ত প্রথম দফায় শুনানি শেষে বিরতির পর আবারও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শোনেন বিচারক। সব শুনানি ও এজাহার পর্যালোচনা শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সুলতানা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে, গত ৩ আগস্ট হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়েছিলেন সুলতানা পারভীন, তবে আদালত তা না মঞ্জুর করে তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। তিনি ২১ আগস্ট জামিন আবেদন করলেও আদালতে সশরীরে উপস্থিত না থাকায় আপত্তি ওঠে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম শহরে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের নামাঙ্কন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয় এবং মাদক মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনাটি সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ঘটনার পাঁচ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করে। এতে সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। এখনও বাকি আসামিরা আত্মসমর্পণ করেননি।
সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেন,
“আজ প্রাথমিকভাবে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পেয়েছি। প্রমাণ হয়েছে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমি বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবো।”
তার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন,
“এই আদেশ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।”